![]() |
\ মোঃ রাশেদুর রহমান রাসেল \ |
রমজানের চৌদ্দতম দিন এসে, রোজা রাখার যাত্রা আরও একটি নতুন স্তরে পৌঁছেছে। প্রথম কয়েকটি দিন শারীরিক এবং মানসিক প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে গড়ে উঠলেও, এখন রোজার প্রকৃত উদ্দেশ্য—আত্মবিশ্বাস, ধৈর্য, এবং আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আনুগত্য—প্রকাশিত হতে শুরু করে। চৌদ্দতম রোজা আমাদের শেখায় যে, রোজা শুধু একটি শারীরিক পরীক্ষা নয়, বরং এটি আত্মিক উন্নতির পথ, যা আমাদের আল্লাহর কাছে আরও নিকটে নিয়ে আসে।
কুরআনে আল্লাহ বলেছেন, “তোমরা বিশ্বাসে ও কাজের মধ্যে সৎ হও, আল্লাহ তোমাদের প্রতি দয়া করবেন।” (সূরা আল-বাকারা: ২৬২)। চৌদ্দতম রোজা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, রোজার প্রকৃত লক্ষ্য হলো আমাদের অন্তরের শুদ্ধতা এবং আধ্যাত্মিক উন্নতি অর্জন করা। কেবল বাহ্যিক উপবাস নয়, বরং আমাদের আচরণ, মনোভাব এবং কাজের মধ্যে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করতে হবে।
এই সময়, আমাদের মধ্যে এমন একটি বিশ্বাস গড়ে ওঠে যে, আল্লাহর হুকুমের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য এবং ধৈর্য রাখার মাধ্যমে, আমরা তাঁর কাছ থেকে অফুরন্ত রহমত এবং প্রশান্তি লাভ করতে পারি। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি রোজা রাখে এবং তার অন্তরও শুদ্ধ রাখে, আল্লাহ তাকে পরিপূর্ণ পুরষ্কার দেবেন।” (সহিহ বুখারি)। চৌদ্দতম রোজা আমাদের এই উপলব্ধি দেয় যে, রোজার সঠিক চর্চার মাধ্যমে, আমরা আমাদের অন্তরকে আল্লাহর পথে পরিশুদ্ধ করতে পারি এবং তা আমাদের জীবনে প্রশান্তি ও আলোর উৎস হয়ে উঠবে।
এছাড়া, রোজার মাধ্যমে আমরা সহানুভূতি, সহমর্মিতা এবং মানবিক মূল্যবোধের চর্চা করতে পারি। চৌদ্দতম রোজা আমাদের শেখায় যে, আমরা যখন অন্যদের সাহায্য করি, তখন আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করি। সমাজের প্রতি আমাদের দায়িত্ব পালন এবং অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো রোজার প্রকৃত শিক্ষা। চৌদ্দতম রোজা আমাদের জীবনে আত্মবিশ্বাস এবং আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের একটি নতুন দিগন্ত খুলে দেয়। এটি আমাদের মনে এবং হৃদয়ে আল্লাহর রহমত, প্রশান্তি এবং সন্তুষ্টি অর্জনের শক্তি সৃষ্টি করে। আসুন, আমরা এই রোজার শিক্ষাকে নিজেদের জীবনযাত্রায় অন্তর্ভুক্ত করি এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের পথে এগিয়ে চলি।
লেখক : সম্পাদক ও প্রকাশক, দৈনিক সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন, জামালপুর।
সরকারি মিডিয়া (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত জামালপুরের প্রচারশীর্ষ দৈনিক-সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন অনলাইন ভার্সন । আপনার মতামত প্রকাশ করুন