![]() |
মোঃ রাশেদুর রহমান রাসেল |
জীববৈচিত্র্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ পাখি। নগরায়ন ও বনাঞ্চল ধ্বংসের কারণে পাখিদের বাসস্থান সংকুচিত হচ্ছে। টাঙ্গাইলের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন পাখিদের জন্য অর্ধশতাধিক গাছে মাটির হাঁড়ি স্থাপন করেছে। এই উদ্যোগ আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
অপরিকল্পতি নগরায়ন ও নির্বিচারে বনাঞ্চল কেটে মানববসতি গড়ে তোলার কারণে পাখির বাসস্থান ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। নানা কারণে শহরাঞ্চলে গাছের সংখ্যা কমে গেছে। ফলে লোকালয়ে বাস করে যেসব পাখি তাদের বাসস্থান সংকট প্রকট হয়েছে। ফলে এরা নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবে শহর ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে। জলবায়ুর পরিবর্তন ও অতিরিক্ত দূষণও পাখিদের জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাখি না থাকলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়, যা পরোক্ষভাবে আমাদের জীবনকেও বিপন্ন করে তুলতে পারে।
টাঙ্গাইলে যেভাবে মাটির হাঁড়ি স্থাপন করে পাখিদের নিরাপদ আশ্রয় তৈরি করছেন, তা একটি উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে। এই মাটির হাঁড়ি ঝড়-বৃষ্টি ও শীত থেকে পাখিদের রক্ষা করতে সাহায্য করবে, পাশাপাশি এদের প্রজননেও সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। পাখি সংরক্ষণ ও রক্ষায় সমাজে এমন আরও অনেক উদ্যোগের প্রয়োজন। আশাকরি, টাঙ্গাইলের এই উদ্যোগ অন্যান্য অঞ্চলের জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে উঠবে। পাখিরা প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, তাই তাদের রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব।
পাখি রক্ষায় নগর ও গ্রামাঞ্চলে গাছ লাগাতে হবে, যাতে প্রাকৃতিক বাসস্থান তৈরির সুযোগ পায় পাখিরা। এছাড়া পরিবেশ সংরক্ষণে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নীতি প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়ন গুরুত্বপূর্ণ। বনভূমি সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব কমাতে আমাদের সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতা প্রয়োজন। বনাঞ্চল ও গাছপালা রক্ষায় প্রয়োজন সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা। সরকারি পর্যায়ে বন রক্ষার আইন প্রণয়ন ও তা কার্যকর করতে হবে, পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিতে হবে। পাখি রক্ষায় শুধু সরকারি নয়, সামাজিক ও ব্যক্তিগত পর্যায়েও এগিয়ে আসার প্রয়োজন আছে। পাখি আমাদের জীববৈচিত্র্যের অংশ, তাদের রক্ষা করতে পারলেই প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় আমরা ভূমিকা রাখতে পারব।
লেখক: সম্পাদক সম্পাদক ও প্রকাশক, দৈনিক সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন।
সরকারি মিডিয়া (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত জামালপুরের প্রচারশীর্ষ দৈনিক-সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন অনলাইন ভার্সন । আপনার মতামত প্রকাশ করুন